"চরৈবেতি" কথাটির মধ্যে যে জায়মানতার ইঙ্গিত রয়েছে, তার সফল রূপায়ণ এবারের ডিজিটাল আত্মপ্রকাশ। প্রলম্বিত প্রকাশ, সঠিক সময়ে লেখা না পাওয়া, সৃজনশীলতা নিয়ে কুণ্ঠা বা স্বাভাবিক অনীহা বারবার ছোটোখাটো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকাশনার ক্ষেত্রে। তখন ভাবা হল নতুন বিচরণভূমি অর্থাৎ কম্পিউটার-মোবাইলের জগতে নিমজ্জন যদি সৃষ্টি বা মনের আগ্রহকে নতুন মাত্রা দেয়। পঠনপাঠনের নতুন দিক, যা কিনা নতুন প্রযুক্তির হাত ধরেই আসে, তাকে বরণ করা হল সাদরে এবং সচেতনতার সঙ্গে। পাবলিকেশন সেলের শিক্ষকরা হাত ধরলেন ছাত্রদের। জন্ম নিল কলেজ পত্রিকা নব কলেবরে। পঠনপাঠনরত ছেলেমেয়েরা হাতেকলমে কাজ শিখে ডিজিটাল পেজ সাজিয়েছে— অধ্যক্ষ হিসেবে এ আমার কাছে কম বড়ো কথা নয়। পরবর্তী পদক্ষেপে যদি "চরৈবেতি" ওয়েব পোর্টাল হয়ে ওঠার নিশ্চিত সম্ভাবনা তৈরি করে, তাহলে সেটা হবে আরো বড়ো পাওনা। সাগ্রহ প্রতীক্ষা রইল তার। এর মাঝে বড়ো পরিসরে পাঠকধন্য হয়ে উঠলে পত্রিকার মর্যাদা বাড়বে। সেই সম্পর্কিত নতুন নতুন প্রস্তাব উঠে আসুক। আর তাহলে প্রিয় পত্রিকার শ্রীবৃদ্ধি কিছু সময়ের অপেক্ষামাত্র বলেই আমার বিশ্বাস।
সম্পাদক মণ্ডলীর বার্তা
সম্পাদক মণ্ডলী
‘চরৈবেতি’— সংস্কৃত এই শব্দটির অর্থ ‘চলতে থাকো '। প্রাচীন ঋগ্বৈদিক ভাবনা থেকে উঠে আসা এই মন্ত্র আজও সমান প্রাসঙ্গিক। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই একটি শব্দ আমাদের শেখায়— স্থিরতা নয়, অগ্রগতিই জীবনের প্রকৃত ধর্ম। রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয়-এ ‘চরৈবেতি’-র প্রকাশনা শুরু হয় অনেক বছর আগেই, যা ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগেই গড়গড়িয়ে চলছিল। লকডাউনের কারণে এই পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায় হঠাৎই। আজ ইংরেজির ২০২৬ সালে পৌঁছে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয় 'চরৈবেতি' প্রকাশের। যেমনি বলা তেমনি কাজ। ‘চরৈবেতি’-র উদ্দেশ্যে শুরু হল নতুন করে পথ চলা। আমরা, ছাত্রছাত্রীরা মিলে নিজেদের শিল্পকর্মগুলো জড়ো করে তুলি। কারো গল্প, কারো গান, কারো কবিতা, কারো আঁকার মাধ্যমে ভরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি আমাদের পত্রিকা, ‘চরৈবেতি’। প্রথমে ছাত্রছাত্রীদের থেকে সংগ্রহ করি নানানরকম লেখালেখি, অঙ্কন ইত্যাদি। তারপর সেগুলো নিয়ে শুরু হয় আমাদের কয়েকজনের চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রচেষ্টা। যার মধ্যে রয়েছে প্রুফ সংশোধন, লেখা বাছাই, কারেকশন ইত্যাদি। যদিও এসব ব্যাপার আমরা নিজেরাও সবেমাত্র শিখতে শুরু করেছি। সুতরাং কীসের যে কী হল, তা নিয়ে খুব বেশি কিছু দাবি করার নেই। আদতে তো বন্ধুদেরই ব্যাপার। তারপর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ছত্রছায়ায় আমরা শুরু করি তিন দিন যাবৎ এক কর্মশালা (workshop)। যেহেতু, আমরা এবার এই পত্রিকাকে শুধুমাত্র ছাপার পাতায় দুই মলাটে সীমাবদ্ধ না রেখে, চেয়েছি ওয়েব পোর্টালের রূপ দিতে, সেহেতু এই কর্মশালা (workshop)-য় ডিজিটাল মাধ্যমের অনেক পদ্ধতি শিখতে শুরু করলাম আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায়। বহু অজানা কিছু জিনিস শিখতে পারলাম এই কর্মশালায়। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ২৫ শে বৈশাখ, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ‘চরৈবেতি’ প্রকাশ করব ডিজিটাল ওয়েব পোর্টালে। সেই মতোই কাজ চলল আমাদের। শেষ পর্যন্ত আজ, ২৫ শে বৈশাখ, রবিঠাকুরের জন্মতিথিতে সকলের সহযোগিতায় প্রকাশ পেল আমাদের ‘চরৈবেতি’। আপনাদের সকলের শুভেচ্ছা আমাদের পাথেয়।
রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী পরিচালিত ‘চরৈবতি’ প্রকাশ উপলক্ষ্যে ছাত্রছাত্রী, সম্পাদকমণ্ডলী ও শিক্ষকবৃন্দকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। পত্রিকাটি আগামী দিনে সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার ধারাকে সমৃদ্ধ করুক— এই কামনা করি।
সম্পাদকীয়
আমাদের এই সংকলনটি আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে আমরা গর্ব অনুভব করছি। আজকের দিনে আমরা পত্রিকাটিকে শুধু ছাপার অক্ষরে না রেখে চেষ্টা করেছি একটি ওয়েব পোর্টালের রূপ দিতে । এই পত্রিকাটি শুধু কিছু লেখা একত্র করার প্রয়াস নয়, বরং এটি আমাদের সৃজনশীলতা, চিন্তাভাবনা ও অনুভূতির এক অনন্য প্রকাশ। মানবজীবনের মূল সুরই হল গতি— অবিরাম এগিয়ে চলা। এই চলার মন্ত্রই আমাদের প্রাচীন দর্শনে ধ্বনিত হয়েছে ‘চরৈবেতি’ শব্দে, যার অর্থ— থেমে না থেকে সামনে এগিয়ে চলা। জীবনের পথে আমরা নানান বাধা, ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হই। অনেক সময় ক্লান্তি আমাদের থামিয়ে দিতে চায়, হতাশা আমাদের পথভ্রষ্ট করে। কিন্তু ‘চরৈবেতি’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়— থেমে যাওয়া নয়, বরং প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের সত্য অর্থ। এই সংকলনের প্রতিটি লেখা সেই অগ্রযাত্রারই প্রতিচ্ছবি। আশা করব আমাদের এই সৃজনশীল প্রচেষ্টা আমাদেরই মতো আরও অনেককে এই উদ্যোগের কাছে টেনে আনবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই পত্রিকা পাঠকদের মনে নতুন উদ্দীপনা জাগাবে এবং ‘চরৈবেতি’-র চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে। মনে করাবে, জীবন থেমে থাকার নয়— চলতেই হবে, শিখতেই হবে, এগিয়ে যেতেই হবে। আগামী দিনে, আমরা যখন অনেকেই এই কলেজে থাকব না, আমরা চাইব ‘চরৈবেতি’ বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের সাথে প্রাক্তনীদের একটি যোগসূত্রের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াক। আমরা চাইব সকলের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও ‘চরৈবেতি’ এইভাবেই এগিয়ে যাক। ‘চরৈবেতি’ হয়ে উঠুক রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয়-এর ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীল সত্তার বিকাশের এক অনন্য পরিসর। পরিশেষে বলি, এই পত্রিকা প্রকাশে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ আমাদের আগামী দিনের পথ চলার শক্তি জোগায়। আশীর্বাদ করবেন এইভাবেই যেন ‘চরৈবেতি’-র প্রকাশ ঘটে আগামী দিনেও।
রিম্পা সাধুখাঁ