রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরিচালিত ওয়েবজিন

A+ A A-

দুই নম্বর শিকার

কলমে: অতনু আশ

                         দুই নম্বর শিকার 

 

 

সকালে চা হাতে খবরের কাগজ টা নিয়ে চোখ আটকে গেলো প্রথম পাতায় ।  

 

প্রথম পাতার  headlines এ বড় বড় অক্ষরে ছাপা রয়েছে "Highway তে ট্রাফিক পুলিশের রহস্যজনক ও বীভৎস মৃত্যু ।  ঘটনাটির ওপর শুরু হয়েছে  তদন্ত"।

 

খবর টা পড়ে মেরুদণ্ড দিয়ে যেনো একটা শীতল স্রোত বয়ে গেলো । কারণ আমি নিজে  একজন অনভিজ্ঞ ট্রাফিক পুলিশ , সদ্যই joining করেছি ।

 

মনে হচ্ছে , এই লোকটাকে আগে কোথাও দেখেছি,

কিন্তু খুবই অস্পষ্ট, ঠিক করে মনে করতে পারছি না  ।  

 

ঠিক এই সময়ে outdoor এর বেল টা কর্কশ শব্দে বেজে উঠল । কাগজ টা অর্ধেক টা পরেই উঠে গেলাম । 

পিওন এসেছে, আমার জন্য নাকি চিঠি আছে ।

 

 যথারীতি খাম থেকে চিঠিটা খুলে পড়ার পর আমার  আত্মারাম খাঁচা  ছাড়া হবার জোগাড় ।

ঐ accident place -এই আমার posting হয়েছে , আর সাথে সাথে বেতনও একটু ওপরে উঠেছে ।

 

সাধারণত joining এর পরেই এরকম সুযোগ আসে না। তাই আর লোভ টা সামলাতে পারলাম না । সব ভুলে আমি ওখানে যাবার জন্য রাজি হয়ে গেলাম ।

 

বাড়িতে আমি একাই থাকি , বিয়ে -থা করিনি , বাবা গত হয়েছেন দু বছর হলো , মাকে তো ছোট বেলাতেই হারিয়েছি । তাই আমাকে সাবধান করার মতো বিশেষ কেউ নেই ।

 

বাড়ি থেকে আমার কর্মস্থল টা বেশ অনেক টা পথের ঝামেলা। ঠিক করেছি ওখানেই এক-টা বাড়ি ভাড়া নেবো । 

 

পরদিন তোলপি- তোলপা গুছিয়ে সোয়া  সাত টা নাগাদ রওনা দিলাম । জায়গাটার নাম শালবনী , ঝাড়খণ্ডের একটা জায়গা । ওখানে পৌঁছতে প্রায়  দুপুর গড়িয়ে বিকেল । 

 

আমার duty শুরু দু - দিন পর থেকে । আগে এসেছি জায়গা টা একটু ঘুরে দেখব বলে ।

 

ওখানে পৌঁছে কাছাকাছি একটা ঘর ভাড়া নিলাম , যেখানে দাঁড়িয়ে আমাকে যানবাহনের জটলা ছাড়াতে হবে তারই খুব কাছে । খুব কষ্টে একটা ঘর পেলাম । 

 

বাড়ির মালিক second floor এ আমাকে একটা ঘর দিলেন । বেশ কমের মধ্যেই হয়ে গেলো ।

আমি ব্যাগপত্র রেখে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলাম ।

 

আগে ঘরটা নিয়ে একটু বলা দরকার ।

 

ঘরটা খুব একটা বড়ো না , একটা ছোট খাট, রঙ ওঠা কাঠের আলমারি, তার ভিতর  একটা teddy -বেশ অদ্ভুত । যেনো কেউ ভুল করে ফেলে রেখে গিয়েছে । কেনো জানিনা  পুতুল টাকে দেখে বেশ ভয় পেয়ে গেলাম , তার চোখ গুলো যেন জীবন্ত ।যেনো সে তার নতুন শিকারের অপেক্ষায় আছে ।

 

ঘরটার কোণায় কোণায় মাকড়সারা তাদের শিকার এর জন্য জাল পেতেছে , মনে হলো ঘরটায় অনেকদিন হলো কেউ আসে নি ।

 

বড়ো জানলাটার কাচ খুলে দিতেই একরাশ ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকে পড়ল । এখান থেকে বাইরের দৃশ্য টা ভালোই দেখা যায় , আমার কর্মস্থল টাও স্পষ্ট ।

 

বিকেলের পড়ন্ত রোদে গাছের সবুজ কচি পাতা গুলো চকচক করছে , গাছ  গুলো ডালপালা নেড়ে যেন  কিছু বলতে চাইছে ।

 

 সেই রোদের আলোতেই দেখলাম মেঝে তে কি একটা পরে আছে । কাছে গিয়ে বুঝলাম একটা ছোট বাদুড় , গা শিউরে উঠল । তাড়াতাড়ী ওটা কে নিজেই ফেলে দিলাম ।

 

দুপুরে lunch করা হয়নি, তাই lunch টা সেরে আমি একটু বালিশে মাথা ঠেকালাম । 

 

খানিক টা পর এলার্ম এর শব্দে ঘুম টা ভেঙে গেলো । সন্ধ্যা নেমেছে । ভাবলাম একবার বাইরে টা ঘুরে আসি । যাই হোক এখানেই তো থাকতে হবে এখন ।

 

তখনও জানতাম না এটাই আমার শেষ ভ্রমণ হতে চলেছে ।

 

একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। সেখানেও আমাদের হরিদা র দোকানের মতোই আড্ডা বসেছে ।  

 

বেশ কয়েক জন বয়স্ক মানুষের সাথে আমার আলাপ হলো । তবে কেনো জানি না মনে হলো তারা আমার বাসা টার কথা শুনে বেশ ভয় পেয়েছেন। তারা কিন্তু আমাকে কিছু বললেন না । শুধু একটা সাবধান বাণী দিয়ে গেলেন।  

 

"কেনো এই সাবধান বার্তা ?.."

 

আমি এ যুগের ছেলে , ভূত -প্রেত এ আমার বিশ্বাস নেই । 

 কিন্তু তাদের কথা শুনে  মনের কোণায় একটু ভয় বাসা বাঁধতে শুরু হয়েছে ।

 

যাইহোক চা টা শেষ করে পাশে উঠে গেলাম । একটা আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে  সিগারেট ধরালাম । আমি তখন মন থেকে ভয় টা ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছি ।

 

হঠাৎই কানে এলো একটা rhyme, বাচ্চাদের rhyme...

               Mary, Mary, quite contrary,

            How does your garden grow?

         With silver bells and cockle shells,

             And pretty maids all in a row

 

"কে বলছে এই rhyme ?"

        একটা মেয়েলি কণ্ঠে অনবরত এই rhyme  ভেসে আসছে ।

              Mary, Mary, quite contrary,

            How does your garden grow?

         With silver bells and cockle shells,

              And pretty maids all in a row

 

কিন্তু এর পর যা হলো  তা অবিশ্বাস্য । দেখছি সিগারেটের ধোঁয়া টা  বাতাস এ মিশে না গিয়ে  একটা নারী মূর্তির অবয়ব তৈরি করেছে । 

বেশ স্পষ্ট ।

 

মাথায় একটা ফুল এর মতো কিছু রয়েছে । আর একটা অদ্ভুত মিষ্টি ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে তার শরীর থেকে । তার মুখ বীভৎস ভাবে বিকৃত , যেন কেউ ইচ্ছে করে তার মুখের উপর কোনো ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করেছে । 

 

" আরে ! মূর্তিটার একটা পা কোথায় ?" অনুভব করলাম বুকের হৃৎপিণ্ডের সিস্টোল  - ডায়াস্টোল  তাদের ছন্দ হারিয়েছে । আমার পা গুলো যেন  কেউ মাটিতে গেঁথে দিয়েছে । নড়বার ক্ষমতা টুকু নেই ।

 

মনে হলো যেনো আগে এই নারীমূর্তি কোথাও দেখেছি । আমি আমার স্মৃতির পাতাগুলো ওল্টাতে থাকলাম , কিন্তু ফলদায়ক  হলো না ।

 

  কিন্তু তখন হঠাৎই একটা দমকা বাতাস এসে ওই  নারী মূর্তি টাকে বাতাসে মিশিয়ে দিলো ।

মনের মধ্যে তখন এক চাপা ভয় আর উত্তেজনা একসাথে খেলা করছে ।

 

আমি সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে গেলাম ।রাতে লুচি আর বনমোরগের রোস্ট  খেয়ে  বালিশে মাথা ঠেকিয়েছি , আবার সেই নারী মূর্তি  টার  কথা মনে পড়ে গেলো । 

" হ্যাঁ... এই পুতুল টা এখানে কি করে এলো ।"এটা তো....

"তাহলে কি ঘরে কেউ ঢুকেছিল?"

 

ভাবতে ভাবতে  আমার অজান্তেই চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো । 

 

 

 রাতে হঠাৎ করে ঘুম টা ভেঙে গেলো। Night lamp এর আলোয় দেখলাম তখন ঘড়ি বলছে ২টো বেজে 30 ।

 

ঘরটা গুমোট লাগছিল তাই জানালাটার কাছে গেলাম। জানলা টা খুলতেই  পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় ঘরটা ভরে গেলো ।

 

  আমি রাস্তার দিকে তাকিয়ে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেলাম। এক কিশোরী highway দিয়ে হেঁটে চলেছে । আরেকটু ভালো করে দেখার জন্য আমার বাইনোকুলার টা নিলাম । 

 

"আরে ! এ তো সেই মেয়ে টা, চায়ের দোকানের অন্ধকার গলিতে যার অবয়ব দেখেছিলাম । ঐ  তো সেই মাথায় গোঁজা সেই ফুল টা ।" 

 

কিন্তু পার্থক্য একটাই , এর মুখটা আগের মতো বিকৃত নয় । এর পর যা হলো তা বর্ণনা করতে গিয়েও আমার ঘাম ছুটে যাচ্ছে ।

 

একটা ট্রাফিক পুলিশ  আরও কয়েক জন মিলে মেয়েটা কে একটা লোহার রড জাতীয় কিছু দিয়ে তার মুখে মারছে । 

 

 মনে হলো যেনো আমারই  জীবনের কোনো ইতিহাস আমারই সামনে কেউ  পর্দায় তুলে ধরেছে ।

 

আমি চিৎকার করে উঠলাম । কিন্তু মনে হলো আমার গলার স্বর এই দুর্বোধ্য অন্ধকারে  রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে ।

 

আমাকে চমকে দিয়ে হঠাৎই  সঙ্গে সঙ্গে একটা ট্রাক full speed এ তার ওপর দিয়ে চলে গেলো ।

 

আমি আবারও চিৎকার করে উঠলাম , কিন্তু ফল হলো না। আমি তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে সেই দিকে দৌড়তে লাগলাম । 

 

 ঘর থেকে বেরিয়ে  বারান্দা, বারান্দা থেকে সিঁড়ি , সিঁড়ি থেকে এক লাফে রাস্তায় , রাস্তা থেকে দৌড়ে সেখানে পৌঁছে দেখি কেউ কোথাও নেই , কই সেই পুলিশ , কই সেই মেয়ে।

 

কোথাও কিছু চিহ্ন মাত্র নেই । 

আমি কি তবে ভুল দেখলাম ?

রাস্তায় ল্যাম্প পোস্টের আলো গুলো  যেন নৈশ প্রহরীর মতো পাহারা দিচ্ছে, প্যাঁচা র ডাক যেনো কোনো অশুভ শক্তি কে আহ্বান জানাচ্ছে ।   আমি আর দাঁড়িয়ে না থেকে ঘরের দিকে রওনা দিলাম ।

 

একটা নেড়ি কুকুর ডেকে চলেছে রাস্তায় । হয়তো ও এমন কিছু দেখেছে, যা আমি দেখতে পাচ্ছি না ।

 

আমার  ঘরের বাইরে ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে  আমার কেমন যেন সব গুলিয়ে গেলো । তখন রাত ১ টা বাজতে এখনও ৫ মিনিট বাকি । মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল । 

 

আমি ঘরের দরজা টা খুলতেই  একদল বাদুড় ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো ।

 

 ভাবলাম "বাদুড় কোথা থেকে এলো ।" সঙ্গে সঙ্গে একটা ফুলের সুবাস পেলাম।  না ,  মন ভরানো ফুলের সুবাস নয় । এ সুবাস  আমি আগেও  পেয়েছি , সেই চায়ের দোকানের গলির অন্ধকারে ।

 

দেখলাম "আরে! এ তো সেই মেয়ে টা, যাকে কিছুক্ষণ আগে ট্রাক চাপা দিয়ে গেল । "

 

একটা ঝোড়ো হাওয়ায় তার মুখের ওপর থেকে চুল গুলো সরে গেলো ।  কি বীভৎস  মুখ । চোখের মণি দুটোর জায়গায় মনি দুটো উধাও, মুখ দিয়ে রক্ত  গড়াচ্ছে , ঐ তো একটা পা নেই ।

মনের মধ্যে এক অশনি সংকেত বেজে উঠল ।

 

              Mary, Mary, quite contrary,

            How does your garden grow?

         With silver bells and cockle shells,

            And pretty maids all in a row

 

জানিনা কোত্থেকে কবিতা টা আসছে । আর একটা চাপা গোঙানি আসতে শুরু করেছে ।

আবারও রক্ত হিম হয়ে গেলো ।

 

হ্যাঁ, হ্যাঁ মনে পড়ছে খুব অস্পষ্ট, অনেকগুলো বছর আগে চাকরিতে join করার আগে, আমি একটা খুব অন্যায় কাজ করেছিলাম । দেশের গোপন তথ্য বাইরে পাঠাতাম । 

 

আমরা এই কাজে পাঁচ জন যুক্ত ছিলাম । একদিন একটা কিশোরী মেয়ে আমাদের এই কার্যকলাপ জানতে পেরে যায় ।

 

তার নাম ছিল বৈশালী, আমরা তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম , ভয় দেখলাম , টাকার লোভ দেখালাম , 

কিন্তু বলে না "পিপীলিকার ডানা গজায় মরিবার তরে" - হা- হা -হা -হা....

বৈশালী কথা শুনল না , উল্টে সে আমাদের পুলিশের ভয় দেখাতে লাগল । আমাদের  বিরুদ্ধে সব প্রমাণ  এখন ওর ফোনে ।

 

তখন আমাদের  দানবীয় রুপ জেগে উঠল । আমরা তাকে নৃশংস ভাবে মেরে ফেলি । মনে পড়ছে, আমরা তার মাথায় ততক্ষণ পর্যন্ত আঘাত করেছিলাম যতক্ষণ পর্যন্ত না ওর প্রানটুকু বেরিয়ে যায় । 

 

এখন সেই ফুলের সুবাস আর নেই, তার বদলে ঘর টা ভরে  গেছে একটা আঁশটে পচা গন্ধে ।

 

হ্যাঁ সব মনে পড়ছে এবার । 

সেই ট্রাফিক পুলিশ টাও তো ছিল আমাদের সঙ্গে , যার কিছু দিন আগেই মৃত্যু  হয়েছিল ।

 

হ্যাঁ  মনে পড়ছে সেই সময় ওর ফোনে একটা ringtone  বেজে ছিল । 

 

              Mary, Mary, quite contrary,

            How does your garden grow?  

         With silver bells and cockle shells,

            And pretty maids all in a row.

 

গানের সুরে এই বাচ্চাদের rhyme টা বেজে চলেছিল । 

সব মনে পড়েছে এবার। সাথে সাথে আমার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো ।

সেই বৈশালী র মতোই মুখ, একই চেহারা, সব একই রকম ।

 

সেই rhyme টা এখনও বেজে চলেছে , গোঙানি টা পরিবর্তন হয়েছে একটা লোম খাড়া করে দেওয়া জান্তব গর্জনে ।

 

               Mary, Mary, quite contrary,

            How does your garden grow?  

         With silver bells and cockle shells,

             And pretty maids all in a row.

 

আমি জানি এটা বাচ্চাদের  শোনানো হলেও এটা  বাচ্চাদের  জন্য নয় । এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভয়ঙ্কর । ইংল্যান্ডের রানি ব্লাডি মেরি, শাস্তি দিত মৃত্যু  ,  তাও সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে ,

" ....all in a row"

 

ভয় এ আমার  স্বরযন্ত্র এ মরচে পড়ে গিয়েছে। মুখ থেকে  একটা টু -শব্দ  পর্যন্ত বেরোচ্ছে না ।  দশ বছর আগের স্মৃতি  গুলো যেন  ছবি হয়ে ঘরের দেওয়ালে  ফুটে উঠেছে । 

 

তার মুখে একটা  বাঁকা হাঁসি ।

 

এরপর শুরু হলো এক নারকীয় কাণ্ড , 

 

 আলমারিতে থাকা   সেই পুতুল  টা  আলমারি থেকে বেরিয়ে এলো, আসছে সে আমার দিকে, আর সেই নারী  মূর্তি যেনো তাকে  কোনো এক অদৃশ্য শক্তিতে  বশ করেছে ।

 

আমরা চিৎকার করা তো দুরস্থ, হাত - পা  পর্যন্ত নড়াবার ক্ষমতা নেই ।  

 

যেনো  কোনো মায়াবী অদৃশ্য শক্তি  আমার  সমস্ত দেহখানা   চেপে  ধরে রেখেছে । ঠিক বলির আগে যেমন পাঁঠা কে  চেপে  ধরা হয় , সেই ভাবে । 

 

সেই পুতুল টা এখন আমার  সামনে । তার হাত দুটো বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার গলার দিকে । আমি কিচ্ছু করতে পারছি না ।  

 

আমি তার  আত্মার  শান্তির জন্য এই  ঘরেই  রেখে গেলাম আমাদের কার্যকলাপের একটা প্রমাণ । আমার মৃত্যুর পর পুলিশ এটা খুঁজে পাবে বলে আমার বিশ্বাস ।

 

আজ বৈশালীর জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে , চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে - না ভয়ে না ,  বৈশালী র অবস্থা দেখে।

 

 এবার সে  এক পৈশাচিক  হাঁসিতে ফেটে পড়ল । ঘর কেঁপে উঠল তার হাঁসি তে। বুঝলাম বাকিরাও রেহাই পাবে না ।

 

সেই পচা আঁশটে গন্ধ টা যেনো আমাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করছে ।

 

আমার  আর সময় বেশি নেই ।  

বুঝলাম আমি তার  দুই নম্বর শিকার ।

 

এবার পুতুল টা আমার  গলার দিকে  হাত বাড়িয়ে দিলো। কি ঠান্ডা হাত ,  তার হাত চেপে বসলো আমার গলায় ।

আ.. আ - আর ক -- থ আ বলতে পার.. ছি না ।

সে আমার মাথাটা আস্তে আস্তে পিছন দিকে ঘোরাচ্ছে । 

আর  তা ..র..... আ..

 

নিবন্ধ তালিকায় ফিরে যান
× Enlarged Image