দুই নম্বর শিকার
সকালে চা হাতে খবরের কাগজ টা নিয়ে চোখ আটকে গেলো প্রথম পাতায় ।
প্রথম পাতার headlines এ বড় বড় অক্ষরে ছাপা রয়েছে "Highway তে ট্রাফিক পুলিশের রহস্যজনক ও বীভৎস মৃত্যু । ঘটনাটির ওপর শুরু হয়েছে তদন্ত"।
খবর টা পড়ে মেরুদণ্ড দিয়ে যেনো একটা শীতল স্রোত বয়ে গেলো । কারণ আমি নিজে একজন অনভিজ্ঞ ট্রাফিক পুলিশ , সদ্যই joining করেছি ।
মনে হচ্ছে , এই লোকটাকে আগে কোথাও দেখেছি,
কিন্তু খুবই অস্পষ্ট, ঠিক করে মনে করতে পারছি না ।
ঠিক এই সময়ে outdoor এর বেল টা কর্কশ শব্দে বেজে উঠল । কাগজ টা অর্ধেক টা পরেই উঠে গেলাম ।
পিওন এসেছে, আমার জন্য নাকি চিঠি আছে ।
যথারীতি খাম থেকে চিঠিটা খুলে পড়ার পর আমার আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবার জোগাড় ।
ঐ accident place -এই আমার posting হয়েছে , আর সাথে সাথে বেতনও একটু ওপরে উঠেছে ।
সাধারণত joining এর পরেই এরকম সুযোগ আসে না। তাই আর লোভ টা সামলাতে পারলাম না । সব ভুলে আমি ওখানে যাবার জন্য রাজি হয়ে গেলাম ।
বাড়িতে আমি একাই থাকি , বিয়ে -থা করিনি , বাবা গত হয়েছেন দু বছর হলো , মাকে তো ছোট বেলাতেই হারিয়েছি । তাই আমাকে সাবধান করার মতো বিশেষ কেউ নেই ।
বাড়ি থেকে আমার কর্মস্থল টা বেশ অনেক টা পথের ঝামেলা। ঠিক করেছি ওখানেই এক-টা বাড়ি ভাড়া নেবো ।
পরদিন তোলপি- তোলপা গুছিয়ে সোয়া সাত টা নাগাদ রওনা দিলাম । জায়গাটার নাম শালবনী , ঝাড়খণ্ডের একটা জায়গা । ওখানে পৌঁছতে প্রায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল ।
আমার duty শুরু দু - দিন পর থেকে । আগে এসেছি জায়গা টা একটু ঘুরে দেখব বলে ।
ওখানে পৌঁছে কাছাকাছি একটা ঘর ভাড়া নিলাম , যেখানে দাঁড়িয়ে আমাকে যানবাহনের জটলা ছাড়াতে হবে তারই খুব কাছে । খুব কষ্টে একটা ঘর পেলাম ।
বাড়ির মালিক second floor এ আমাকে একটা ঘর দিলেন । বেশ কমের মধ্যেই হয়ে গেলো ।
আমি ব্যাগপত্র রেখে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলাম ।
আগে ঘরটা নিয়ে একটু বলা দরকার ।
ঘরটা খুব একটা বড়ো না , একটা ছোট খাট, রঙ ওঠা কাঠের আলমারি, তার ভিতর একটা teddy -বেশ অদ্ভুত । যেনো কেউ ভুল করে ফেলে রেখে গিয়েছে । কেনো জানিনা পুতুল টাকে দেখে বেশ ভয় পেয়ে গেলাম , তার চোখ গুলো যেন জীবন্ত ।যেনো সে তার নতুন শিকারের অপেক্ষায় আছে ।
ঘরটার কোণায় কোণায় মাকড়সারা তাদের শিকার এর জন্য জাল পেতেছে , মনে হলো ঘরটায় অনেকদিন হলো কেউ আসে নি ।
বড়ো জানলাটার কাচ খুলে দিতেই একরাশ ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকে পড়ল । এখান থেকে বাইরের দৃশ্য টা ভালোই দেখা যায় , আমার কর্মস্থল টাও স্পষ্ট ।
বিকেলের পড়ন্ত রোদে গাছের সবুজ কচি পাতা গুলো চকচক করছে , গাছ গুলো ডালপালা নেড়ে যেন কিছু বলতে চাইছে ।
সেই রোদের আলোতেই দেখলাম মেঝে তে কি একটা পরে আছে । কাছে গিয়ে বুঝলাম একটা ছোট বাদুড় , গা শিউরে উঠল । তাড়াতাড়ী ওটা কে নিজেই ফেলে দিলাম ।
দুপুরে lunch করা হয়নি, তাই lunch টা সেরে আমি একটু বালিশে মাথা ঠেকালাম ।
খানিক টা পর এলার্ম এর শব্দে ঘুম টা ভেঙে গেলো । সন্ধ্যা নেমেছে । ভাবলাম একবার বাইরে টা ঘুরে আসি । যাই হোক এখানেই তো থাকতে হবে এখন ।
তখনও জানতাম না এটাই আমার শেষ ভ্রমণ হতে চলেছে ।
একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। সেখানেও আমাদের হরিদা র দোকানের মতোই আড্ডা বসেছে ।
বেশ কয়েক জন বয়স্ক মানুষের সাথে আমার আলাপ হলো । তবে কেনো জানি না মনে হলো তারা আমার বাসা টার কথা শুনে বেশ ভয় পেয়েছেন। তারা কিন্তু আমাকে কিছু বললেন না । শুধু একটা সাবধান বাণী দিয়ে গেলেন।
"কেনো এই সাবধান বার্তা ?.."
আমি এ যুগের ছেলে , ভূত -প্রেত এ আমার বিশ্বাস নেই ।
কিন্তু তাদের কথা শুনে মনের কোণায় একটু ভয় বাসা বাঁধতে শুরু হয়েছে ।
যাইহোক চা টা শেষ করে পাশে উঠে গেলাম । একটা আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরালাম । আমি তখন মন থেকে ভয় টা ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছি ।
হঠাৎই কানে এলো একটা rhyme, বাচ্চাদের rhyme...
Mary, Mary, quite contrary,
How does your garden grow?
With silver bells and cockle shells,
And pretty maids all in a row
"কে বলছে এই rhyme ?"
একটা মেয়েলি কণ্ঠে অনবরত এই rhyme ভেসে আসছে ।
Mary, Mary, quite contrary,
How does your garden grow?
With silver bells and cockle shells,
And pretty maids all in a row
কিন্তু এর পর যা হলো তা অবিশ্বাস্য । দেখছি সিগারেটের ধোঁয়া টা বাতাস এ মিশে না গিয়ে একটা নারী মূর্তির অবয়ব তৈরি করেছে ।
বেশ স্পষ্ট ।
মাথায় একটা ফুল এর মতো কিছু রয়েছে । আর একটা অদ্ভুত মিষ্টি ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে তার শরীর থেকে । তার মুখ বীভৎস ভাবে বিকৃত , যেন কেউ ইচ্ছে করে তার মুখের উপর কোনো ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করেছে ।
" আরে ! মূর্তিটার একটা পা কোথায় ?" অনুভব করলাম বুকের হৃৎপিণ্ডের সিস্টোল - ডায়াস্টোল তাদের ছন্দ হারিয়েছে । আমার পা গুলো যেন কেউ মাটিতে গেঁথে দিয়েছে । নড়বার ক্ষমতা টুকু নেই ।
মনে হলো যেনো আগে এই নারীমূর্তি কোথাও দেখেছি । আমি আমার স্মৃতির পাতাগুলো ওল্টাতে থাকলাম , কিন্তু ফলদায়ক হলো না ।
কিন্তু তখন হঠাৎই একটা দমকা বাতাস এসে ওই নারী মূর্তি টাকে বাতাসে মিশিয়ে দিলো ।
মনের মধ্যে তখন এক চাপা ভয় আর উত্তেজনা একসাথে খেলা করছে ।
আমি সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে গেলাম ।রাতে লুচি আর বনমোরগের রোস্ট খেয়ে বালিশে মাথা ঠেকিয়েছি , আবার সেই নারী মূর্তি টার কথা মনে পড়ে গেলো ।
" হ্যাঁ... এই পুতুল টা এখানে কি করে এলো ।"এটা তো....
"তাহলে কি ঘরে কেউ ঢুকেছিল?"
ভাবতে ভাবতে আমার অজান্তেই চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো ।
রাতে হঠাৎ করে ঘুম টা ভেঙে গেলো। Night lamp এর আলোয় দেখলাম তখন ঘড়ি বলছে ২টো বেজে 30 ।
ঘরটা গুমোট লাগছিল তাই জানালাটার কাছে গেলাম। জানলা টা খুলতেই পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় ঘরটা ভরে গেলো ।
আমি রাস্তার দিকে তাকিয়ে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেলাম। এক কিশোরী highway দিয়ে হেঁটে চলেছে । আরেকটু ভালো করে দেখার জন্য আমার বাইনোকুলার টা নিলাম ।
"আরে ! এ তো সেই মেয়ে টা, চায়ের দোকানের অন্ধকার গলিতে যার অবয়ব দেখেছিলাম । ঐ তো সেই মাথায় গোঁজা সেই ফুল টা ।"
কিন্তু পার্থক্য একটাই , এর মুখটা আগের মতো বিকৃত নয় । এর পর যা হলো তা বর্ণনা করতে গিয়েও আমার ঘাম ছুটে যাচ্ছে ।
একটা ট্রাফিক পুলিশ আরও কয়েক জন মিলে মেয়েটা কে একটা লোহার রড জাতীয় কিছু দিয়ে তার মুখে মারছে ।
মনে হলো যেনো আমারই জীবনের কোনো ইতিহাস আমারই সামনে কেউ পর্দায় তুলে ধরেছে ।
আমি চিৎকার করে উঠলাম । কিন্তু মনে হলো আমার গলার স্বর এই দুর্বোধ্য অন্ধকারে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে ।
আমাকে চমকে দিয়ে হঠাৎই সঙ্গে সঙ্গে একটা ট্রাক full speed এ তার ওপর দিয়ে চলে গেলো ।
আমি আবারও চিৎকার করে উঠলাম , কিন্তু ফল হলো না। আমি তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে সেই দিকে দৌড়তে লাগলাম ।
ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দা, বারান্দা থেকে সিঁড়ি , সিঁড়ি থেকে এক লাফে রাস্তায় , রাস্তা থেকে দৌড়ে সেখানে পৌঁছে দেখি কেউ কোথাও নেই , কই সেই পুলিশ , কই সেই মেয়ে।
কোথাও কিছু চিহ্ন মাত্র নেই ।
আমি কি তবে ভুল দেখলাম ?
রাস্তায় ল্যাম্প পোস্টের আলো গুলো যেন নৈশ প্রহরীর মতো পাহারা দিচ্ছে, প্যাঁচা র ডাক যেনো কোনো অশুভ শক্তি কে আহ্বান জানাচ্ছে । আমি আর দাঁড়িয়ে না থেকে ঘরের দিকে রওনা দিলাম ।
একটা নেড়ি কুকুর ডেকে চলেছে রাস্তায় । হয়তো ও এমন কিছু দেখেছে, যা আমি দেখতে পাচ্ছি না ।
আমার ঘরের বাইরে ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে আমার কেমন যেন সব গুলিয়ে গেলো । তখন রাত ১ টা বাজতে এখনও ৫ মিনিট বাকি । মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল ।
আমি ঘরের দরজা টা খুলতেই একদল বাদুড় ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো ।
ভাবলাম "বাদুড় কোথা থেকে এলো ।" সঙ্গে সঙ্গে একটা ফুলের সুবাস পেলাম। না , মন ভরানো ফুলের সুবাস নয় । এ সুবাস আমি আগেও পেয়েছি , সেই চায়ের দোকানের গলির অন্ধকারে ।
দেখলাম "আরে! এ তো সেই মেয়ে টা, যাকে কিছুক্ষণ আগে ট্রাক চাপা দিয়ে গেল । "
একটা ঝোড়ো হাওয়ায় তার মুখের ওপর থেকে চুল গুলো সরে গেলো । কি বীভৎস মুখ । চোখের মণি দুটোর জায়গায় মনি দুটো উধাও, মুখ দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছে , ঐ তো একটা পা নেই ।
মনের মধ্যে এক অশনি সংকেত বেজে উঠল ।
Mary, Mary, quite contrary,
How does your garden grow?
With silver bells and cockle shells,
And pretty maids all in a row
জানিনা কোত্থেকে কবিতা টা আসছে । আর একটা চাপা গোঙানি আসতে শুরু করেছে ।
আবারও রক্ত হিম হয়ে গেলো ।
হ্যাঁ, হ্যাঁ মনে পড়ছে খুব অস্পষ্ট, অনেকগুলো বছর আগে চাকরিতে join করার আগে, আমি একটা খুব অন্যায় কাজ করেছিলাম । দেশের গোপন তথ্য বাইরে পাঠাতাম ।
আমরা এই কাজে পাঁচ জন যুক্ত ছিলাম । একদিন একটা কিশোরী মেয়ে আমাদের এই কার্যকলাপ জানতে পেরে যায় ।
তার নাম ছিল বৈশালী, আমরা তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম , ভয় দেখলাম , টাকার লোভ দেখালাম ,
কিন্তু বলে না "পিপীলিকার ডানা গজায় মরিবার তরে" - হা- হা -হা -হা....
বৈশালী কথা শুনল না , উল্টে সে আমাদের পুলিশের ভয় দেখাতে লাগল । আমাদের বিরুদ্ধে সব প্রমাণ এখন ওর ফোনে ।
তখন আমাদের দানবীয় রুপ জেগে উঠল । আমরা তাকে নৃশংস ভাবে মেরে ফেলি । মনে পড়ছে, আমরা তার মাথায় ততক্ষণ পর্যন্ত আঘাত করেছিলাম যতক্ষণ পর্যন্ত না ওর প্রানটুকু বেরিয়ে যায় ।
এখন সেই ফুলের সুবাস আর নেই, তার বদলে ঘর টা ভরে গেছে একটা আঁশটে পচা গন্ধে ।
হ্যাঁ সব মনে পড়ছে এবার ।
সেই ট্রাফিক পুলিশ টাও তো ছিল আমাদের সঙ্গে , যার কিছু দিন আগেই মৃত্যু হয়েছিল ।
হ্যাঁ মনে পড়ছে সেই সময় ওর ফোনে একটা ringtone বেজে ছিল ।
Mary, Mary, quite contrary,
How does your garden grow?
With silver bells and cockle shells,
And pretty maids all in a row.
গানের সুরে এই বাচ্চাদের rhyme টা বেজে চলেছিল ।
সব মনে পড়েছে এবার। সাথে সাথে আমার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো ।
সেই বৈশালী র মতোই মুখ, একই চেহারা, সব একই রকম ।
সেই rhyme টা এখনও বেজে চলেছে , গোঙানি টা পরিবর্তন হয়েছে একটা লোম খাড়া করে দেওয়া জান্তব গর্জনে ।
Mary, Mary, quite contrary,
How does your garden grow?
With silver bells and cockle shells,
And pretty maids all in a row.
আমি জানি এটা বাচ্চাদের শোনানো হলেও এটা বাচ্চাদের জন্য নয় । এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভয়ঙ্কর । ইংল্যান্ডের রানি ব্লাডি মেরি, শাস্তি দিত মৃত্যু , তাও সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে ,
" ....all in a row"
ভয় এ আমার স্বরযন্ত্র এ মরচে পড়ে গিয়েছে। মুখ থেকে একটা টু -শব্দ পর্যন্ত বেরোচ্ছে না । দশ বছর আগের স্মৃতি গুলো যেন ছবি হয়ে ঘরের দেওয়ালে ফুটে উঠেছে ।
তার মুখে একটা বাঁকা হাঁসি ।
এরপর শুরু হলো এক নারকীয় কাণ্ড ,
আলমারিতে থাকা সেই পুতুল টা আলমারি থেকে বেরিয়ে এলো, আসছে সে আমার দিকে, আর সেই নারী মূর্তি যেনো তাকে কোনো এক অদৃশ্য শক্তিতে বশ করেছে ।
আমরা চিৎকার করা তো দুরস্থ, হাত - পা পর্যন্ত নড়াবার ক্ষমতা নেই ।
যেনো কোনো মায়াবী অদৃশ্য শক্তি আমার সমস্ত দেহখানা চেপে ধরে রেখেছে । ঠিক বলির আগে যেমন পাঁঠা কে চেপে ধরা হয় , সেই ভাবে ।
সেই পুতুল টা এখন আমার সামনে । তার হাত দুটো বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার গলার দিকে । আমি কিচ্ছু করতে পারছি না ।
আমি তার আত্মার শান্তির জন্য এই ঘরেই রেখে গেলাম আমাদের কার্যকলাপের একটা প্রমাণ । আমার মৃত্যুর পর পুলিশ এটা খুঁজে পাবে বলে আমার বিশ্বাস ।
আজ বৈশালীর জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে , চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে - না ভয়ে না , বৈশালী র অবস্থা দেখে।
এবার সে এক পৈশাচিক হাঁসিতে ফেটে পড়ল । ঘর কেঁপে উঠল তার হাঁসি তে। বুঝলাম বাকিরাও রেহাই পাবে না ।
সেই পচা আঁশটে গন্ধ টা যেনো আমাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করছে ।
আমার আর সময় বেশি নেই ।
বুঝলাম আমি তার দুই নম্বর শিকার ।
এবার পুতুল টা আমার গলার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। কি ঠান্ডা হাত , তার হাত চেপে বসলো আমার গলায় ।
আ.. আ - আর ক -- থ আ বলতে পার.. ছি না ।
সে আমার মাথাটা আস্তে আস্তে পিছন দিকে ঘোরাচ্ছে ।
আর তা ..র..... আ..